| সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ | প্রিন্ট


ব্যাংক স্টেটমেন্ট, আইএলটিএস স্কোর, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার—সবকিছু ঠিক থাকার পরও মিলছে না অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা। প্রত্যাখ্যানপত্রে মাত্র একটি লাইন— ‘প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয়নি।’ আর সেই এক লাইনের কারণেই থেমে যাচ্ছে হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন।
চট্টগ্রামের সুমাইয়া আক্তার জানান, একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় মাস্টার্স করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
দীর্ঘ প্রস্তুতি, মোটা অঙ্কের খরচ এবং নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও শেষ পর্যন্ত ভিসা পাননি।
সব কাগজপত্র ঠিক ছিল, আইএলটিএস স্কোরও ভালো ছিল। তারপরও ভিসা রিজেক্ট হলো। পরিবারের সামনে দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছে।
কিছু অসাধু এজেন্সির কারণে তাদের মতো প্রকৃত শিক্ষার্থীরা এখন সন্দেহের মুখে পড়ছে।
সিলেটের তানভীর হাসানের অভিজ্ঞতাও একই রকম। কোনো এজেন্টের সহায়তা না নিয়ে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার নেওয়ার পরও তার ভিসা আবেদন বাতিল হয়।
তানভীর বলেন, “আমি নিজেই সব করেছি।
কোনো দালালের কাছে যাইনি। তবুও ভিসা পেলাম না। অথচ জাল কাগজপত্র বানিয়ে অনেকেই চলে যাচ্ছে। এখন তাদের ভুলের মাশুল দিচ্ছি আমরা।”
শুধু সুমাইয়া বা তানভীর নন, একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন আরো অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।
মাসের পর মাস অপেক্ষার পর হাতে আসছে শুধু প্রত্যাখ্যানপত্র।
অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্সের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অফশোর স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ শতাংশে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশকে ‘এভিডেন্স লেভেল-৩’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশি আবেদনগুলো এখন আগের তুলনায় আরো কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, কমপক্ষে ২৯ হাজার ৭১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ হওয়ার শক্তিশালী প্রমাণপত্র জমা দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে স্টুডেন্ট ভিসা ফিও বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, “প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরজা খোলা রয়েছে। তবে জাল নথি ও অসাধু এজেন্টদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্কিলওয়েভ গ্লোবালের পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের কিছু অসাধু এজেন্সি জাল নথিপত্র ব্যবহার করে আবেদন করানোর কারণে পুরো দেশের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, “এখনই যদি এসব প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথ আরো কঠিন হয়ে যেতে পারে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে।
Posted ৮:০২ পিএম | সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
www.pathokkantho.com | admin