| রবিবার, ০৩ মে ২০২৬ | প্রিন্ট


ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার কারণে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ২ কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
মারধরের শিকার কর্মচারীরা হলেন, শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের আশরাফ উদ্দিন অপু এবং মেডিক্যাল সেন্টারের কম্পাউন্ডার সৈকত হোসাইন।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ওলিউল্লাহ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের নয়ন খান, ব্যবসায় প্রশাসন (বিবিএ) বিভাগের হৃদয় খান, রসায়ন বিভাগের রনি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের রঙ্গনসহ আরো কয়েকজন।
এর মধ্যে নয়ন খান, হৃদয় খান, রঙ্গন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেনের অনুসারী এবং মো. ওলিউল্লাহ, রনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রবিবার (৩ মে) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওলিউল্লাহর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী প্রথমে মেডিক্যাল সেন্টারের কম্পাউন্ডার সৈকত ও পরবর্তীতে শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন অপুকে ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক পর্যায়ে তারা ওই দুই কর্মচারীকে চড়-থাপ্পড় এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। এরপর এদের দুজনকে নিয়ে মেডিক্যাল সেন্টারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সামনে আগামী দিনে ফেসবুকে সরকারের বিরুদ্ধে কোন পোস্ট দেবে না এবং ঘটনা এখানেই শেষ বলে মুচলেকা নেওয়া হয়।
মেডিক্যাল সেন্টার কর্মচারী সৈকত হোসাইন বলেন, ‘ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হঠ্যাৎ করে আমার অফিসে এসেই আমাকে বলেন যে এই ফেসবুক পোস্ট আপনার কিনা।
আমি হ্যাঁ, বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে মারধর শুরু করে। ওই ফেসবুক পোস্ট আমি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে দিয়েছিলাম। পরে এই পোস্ট ডিলেটও করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই পোস্ট নিয়েই আমাকে মারধর করল।
’
মারধরের শিকার আরেক কর্মচারী আশরাফ উদ্দিন অপু বলেন, ‘আমি ট্রেজারার স্যারের অফিস থেকে বের হয়ে ব্যাংকের দিকে যাচ্ছিলাম। তৃতীয় তলার সিঁড়ির পাশে পৌঁছালে পেছন থেকে কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরে। তারা একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশর্ট দেখিয়ে জানতে চায় সেটি আমার কিনা। আমি স্বীকার করলে তারা বলে—সরকারি চাকরিজীবী হয়ে কেন সরকারের সমালোচনা করেছি। এরপর তারা আমাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে।
পরে অন্য কর্মকর্তারা এগিয়ে এলে তারা চলে যায়।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মো. ওলিউল্লাহ বলেন, ‘পোস্ট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কিছু শিক্ষার্থী সেখানে গিয়েছিল। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম, তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মোজাহিদ হোসেন বলেন, ‘কর্মচারীদের মারার বিষয়ে আমি কিছুই অবগত নই। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তুমি যেহেতু বললা আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতেছি।’
সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি মীমাংসা করা হয়ে গেছে। ওই দুজন কর্মচারীরা তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে ও মাফ চেয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান বলেন, ‘দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
Posted ৫:১৩ পিএম | রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
www.pathokkantho.com | admin