| সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ | প্রিন্ট


আরাকান আর্মির নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন আটক জেলে আমিন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ আলোচনাসভায় মায়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির হাতে আটক বাংলাদেশি জেলেদের নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলছেন সেন্ট মার্টিনের জেলে মোহাম্মদ আমিন।
মায়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির হাতে আটক বাংলাদেশি জেলেদের নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সামগ্রিক সংকট নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল ডিসকোর্স (সিসিডি) এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্রিমিনোলজি কালচারাল সোসাইটির (ডিইউসিসিএস) যৌথ আয়োজনে ‘হাঁর হঁমতা, হাঁর হঁষ্ট : মায়ানমার ও জল সীমান্তের জটিল বাস্তবত’ শীর্ষক এই প্র্যাক্সিস ক্লাসরুমে উপস্থিত ছিলেন ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগসহ শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে মর্মস্পর্শী অংশে নিজের বর্ণনা দেন আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়ে ফিরে আসা সেন্ট মার্টিনের জেলে মোহাম্মদ আমিন। তিনি জানান, গত আগস্ট ২০২৫ সালে মাছ ধরতে গিয়ে তাদের তিনটি ট্রলার আটক করা হয়। হাত-চোখ বেঁধে মারধর করা হয়, পাহাড়ের ভেতরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। সাড়ে তিন মাস ধরে অনাহারে রাখা হয়, ঘাস খেয়ে বেঁচে থাকতে হয়েছে।
যারা মারা গেছেন তাদের কম্বলে পেঁচিয়ে ফেলে দেওয়া হতো, দাফনও হতো না। দেশে ফেরার দিন জানতে পারেন, বন্দি থাকার সময়ই মারা গেছেন তাঁর বাবা।
সেন্ট মার্টিনের শিক্ষার্থী যুবায়ের জানান, গত এক বছরে আরাকান আর্মি ৪ শতাধিক জেলেকে আটক করেছে। দ্বীপটি একসময় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ থাকলেও এখন মাত্র ১২ কিলোমিটারে এসে ঠেকেছে।
পর্যটন বন্ধ হওয়া এবং মূল ভূখণ্ড থেকে আসা ব্যবসায়ীদের দখলদারিত্বে দ্বীপবাসীর জীবন-জীবিকা ধ্বংসের মুখে। তিনি সরকারের কাছে আটককৃত জেলেদের মুক্তি ও পুনর্বাসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের আলোকে জলসীমান্তের সংকট মোকাবিলা করতে হবে। সেন্ট মার্টিনে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম দ্বীপের নিজস্ব সংস্কৃতি ও বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করছে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সরকারি নীতি প্রণয়নের তাগিদ দেন।
সিসিডির নির্বাহী পরিচালক শৈলী আকন্দ জানান, গত এক বছরে চার শতাধিক জেলে আটক এবং সাধারণ মানুষ অপহরণের ঘটনা দ্বীপের জননিরাপত্তাকে চরম হুমকিতে ফেলেছে।
সেন্টমার্টিনের নারীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা সংকটের বিষয়টিও তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
আলোচক শামসুল আরিফ ফাহিম বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনের সংকট কেবল সীমান্ত সমস্যা নয়, এটি জীববৈচিত্র্যের বিনাশ, অর্থনৈতিক আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সমন্বিত রূপ। এর সমাধানে একাডেমিক গবেষণা এবং রাষ্ট্রীয় নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আনা জরুরি বলে তিনি মত দেন।
Posted ৭:২৩ পিএম | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
www.pathokkantho.com | admin