আইন- আদালত
আইন- আদালত >>

বাঁশের আঘাতে বাবার চোখ অন্ধ, ছেলের ১২ বছরের কারাদণ্ড

  |   সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ | প্রিন্ট

বাঁশের আঘাতে বাবার চোখ অন্ধ, ছেলের ১২ বছরের কারাদণ্ড

 

রাজধানীর বাড্ডায় পারিবারিক বিরোধের জেরে গজালযুক্ত বাঁশ দিয়ে বাবার চোখ অন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় ছেলে এমদাদুল হক বাদলকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

 

সোমবার (১৮ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

 

সাজার পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি ও বাদলের স্ত্রী মোছা. রতনাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। এদিন কারাগার থেকে বাদলকে আদালতে আনা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবারো কারাগারে পাঠানো হয়।

 

মামলায় এমদাদুল হক বাদলের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির পৃথক ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দেন। তবে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে ওই ধারায় খালাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্ত্রী রতনার বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আসামি বাদলের পূর্ব হাজতবাস সাজা থেকে বাদ যাবে বলে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত।

 

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর বাড্ডার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় এবং তার ছেলে বাদল তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। ঘটনার দিন বাড়ির কেয়ারটেকার ছামিউল হক বাদলকে জানান, তার বাবা টাকা চাইছেন। পরে বাদল নিচে গিয়ে বাবার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাগবিতণ্ডা ও গালাগাল শুরু হলে আব্দুল লতিফ প্রতিবাদ করেন।

 

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদল প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি বাঁশের মাথায় কাপড় পেঁচানো লোহার গজাল দিয়ে বাবার বাম চোখে আঘাত করেন।

আঘাতে আব্দুল লতিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর বাদল তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করেন বলে আদালতে সাক্ষীরা জানান। রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত জব্দ তালিকা, মেডিক্যাল সনদ এবং নয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি উপস্থাপন করে।

 

তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাহবুবুল আলম আদালতকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা গেঞ্জি, একটি বাঁশ, বাঁশের মাথায় লাগানো লোহার গজাল এবং সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়। পরে ফুটেজ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়।

 

আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে আসে, বাদল ও তার বাবার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার সময় চিৎকার শুনে ভবনের বাসিন্দারা বাইরে এসে আব্দুল লতিফকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। কয়েকজন সাক্ষী আদালতে বাদলের হাতে বাঁশ দেখেছেন বলেও সাক্ষ্য দেন।

 

তবে আসামিপক্ষ দাবি করে, ঘটনাটি সাজানো এবং ভুক্তভোগী পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। কিন্তু সাক্ষ্য, চিকিৎসা নথি, সিসিটিভি ফুটেজ ও ফরেনসিক আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।

Posted ৭:০৯ পিএম | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

www.pathokkantho.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Publisher
প্রধান উপদেষ্টা: শেখ শাহীন হোসেন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (NPS) মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ। উপদেষ্টা: এ্যাড: ড. ওহিদুল রহমান (আইনজীবী )। প্রকাশক ও সম্পাদক : আশিষ সাহা , মফস্বল সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম, সহকারী সম্পাদক: আলাউদ্দিন মন্ডল, নির্বাহী সম্পাদক: বিধান কুমার সরকার, বার্তা সম্পাদক: বাঁধন সরকার।
Office Address

কর্পোরেট অফিস ঠিকানা:৫৫/বি পুরানা পল্টন নোয়াখালী টাওয়ার লিফট ১৪ রুম নং সি/এ, ঢাকা ১০০০ ই-মেইল dailypathokkantho@gmail.com অফিস ফোন +8809638278137