বৃহস্পতিবার ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইন- আদালত
আইন- আদালত >>

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শুল্ক ছাড় ও ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দাবি

  |   সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ | প্রিন্ট

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শুল্ক ছাড় ও ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দাবি

 

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ এখন এক বড় সন্ধিক্ষণে। একদিকে জ্বালানি সংকট যখন চরমে, অন্যদিকে অর্থনীতির ওপর বিপুল চাপ ও পরিবেশ বিপর্যয়। এই সংকট থেকে উত্তরণে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার নির্ধারণ করেছে, তাকে উচ্চাকাঙ্খী কিন্তু বাস্তবসম্মত ও অপরিহার্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শুল্ক ছাড় ও ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

সোমবার (৪ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে একশনএইড বাংলাদেশ, বিএসআরইএ এবং জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেটবিডি) আয়োজিত প্রেস ব্রিফ্রিংয়ে এ দাবি জানান তারা।

 

তারা বলছেন, কৃষি জমি রক্ষা করে ‘এগ্রো-ভল্টাইক্স’ মডেল এবং শিল্প-কারখানা, ব্যক্তিমালিকানাসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদ ব্যবহার করেই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। তবে এর জন্য গ্রিড আধুনিকায়ন, ব্যাটারি স্টোরেজ স্থাপন এবং সৌর যন্ত্রাংশের ওপর থেকে উচ্চ আমদানি শুল্ক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একইসাথে, জ্বালানি খাতের এই রূপান্তর যেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নারী সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে একটি ‘ন্যায়সঙ্গত উন্নয়ন’ নিশ্চিত করে, সেই দাবিও জানানো হয়েছে।

 

এ সময় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, আমরা যদি ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে যোগ করতে পারি, তবে এটি কয়েক হাজার কোটি ডলারের এলএনজি বা কয়লা আমদানির বোঝা কমিয়ে দেবে।” তাঁর মতে, সৌরবিদ্যুৎ এখন আর বিকল্প নয়, বরং এটিই হবে দেশের জ্বালানি খাতের মূল চালিকাশক্তি। তিনি বিশেষভাবে জোর দেন ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমের ওপর, যাতে দিনের বাড়তি বিদ্যুৎ রাতেও ব্যবহার করা যায় এবং গ্রিড স্থিতিশীল থাকে।

 

জমির অভাব নিয়ে প্রচলিত বিতর্ক নাকচ করে দিয়ে ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশন (বিজিইএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দীপাল চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, আমাদের কৃষি জমিতেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

 

তিনি ‘এগ্রো-ভল্টাইক্স’ মডেলের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে প্যানেলের নিচে ছায়া-সহিষ্ণু ফসল উৎপাদন হবে এবং ওপরে বিদ্যুৎ মিলবে। এ ছাড়া নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল এবং ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মূল উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান যে, কেবল গার্মেন্টস ও বড় শিল্প কারখানার ছাদগুলো ব্যবহার করে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তিনি বলেন, নেট মিটারিং পদ্ধতিকে আরও উৎসাহিত করলে শিল্প মালিকরাই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। এতে সরকারের ওপর চাপ কমবে এবং কারখানার উৎপাদন খরচও হ্রাস পাবে।

 

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ-এর প্রধান নির্বাহী এম. জাকির হোসেন খান বলেন, জ্বালানি খাতের অস্বচ্ছতা দূর করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানিতে যে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, তার একটি অংশ যদি সৌরবিদ্যুৎ খাতে স্থানান্তর করা যায়, তবে কোনো বিদেশি ঋণ ছাড়াই এই ১০ হাজার মেগাওয়াট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব। জলবায়ু তহবিলের অর্থ সরাসরি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ব্যবহারের দাবি জানান তিনি।

 

ব্যবসায়ী সংগঠন বিএসআরইএ’র সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, সোলার প্যানেল ও ইনভার্টার আমদানিতে বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক এই খাতের বড় বাধা। আমরা বিনিয়োগ করতে চাই, কিন্তু ১০টি দপ্তরে দৌড়াতে গিয়ে প্রকল্প ঝুলে যায়। এই খাতের জন্য ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ ও ওয়ান-স্টপ সার্ভিস এখনই সময়ের দাবি।

 

জেটনেটবিডির সদস্য লিপি রহমান বলেন, এই ১০ হাজার মেগাওয়াট যেন কেবল বড় শিল্পপতিদের পকেটে না যায়। প্রান্তিক নারী, কৃষক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে একটি ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ বা ন্যায়সঙ্গত জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে।

Posted ৭:১৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

www.pathokkantho.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Publisher
প্রধান উপদেষ্টা: শেখ শাহীন হোসেন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (NPS) মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ। উপদেষ্টা: এ্যাড: ড. ওহিদুল রহমান (আইনজীবী )। প্রকাশক ও সম্পাদক : আশিষ সাহা , মফস্বল সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম, সহকারী সম্পাদক: আলাউদ্দিন মন্ডল, নির্বাহী সম্পাদক: বিধান কুমার সরকার, বার্তা সম্পাদক: বাঁধন সরকার।
Office Address

কর্পোরেট অফিস ঠিকানা:৫৫/বি পুরানা পল্টন নোয়াখালী টাওয়ার লিফট ১৪ রুম নং সি/এ, ঢাকা ১০০০ ই-মেইল dailypathokkantho@gmail.com অফিস ফোন +8809638278137