আইন- আদালত
আইন- আদালত >>

ব্যয়বহুল এলএনজি নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুতে জোর দেওয়ার দাবি

  |   শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬ | প্রিন্ট

ব্যয়বহুল এলএনজি নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুতে জোর দেওয়ার দাবি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যয়বহুল এলএনজি নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুতে জোর দেওয়ার দাবি

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে এর বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করেছেন তরুণ জলবায়ুকর্মীরা। একই সঙ্গে খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সেক্টর মহাপরিকল্পনায় (ইপিএসএমপি) নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে এলএনজিসহ জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

শুক্রবার (৮ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট কর্মসূচিতে এসব দাবি জানানো হয়। ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও ইয়ুথ ফর এনডিসি’র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দুই শতাধিক তরুণ জলবায়ুকর্মী অংশ নেন।

 

ব্যানার, পোস্টার ও স্লোগানের মাধ্যমে তারা তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানির আর্থিক চাপ এবং পরিবেশগত ক্ষতির বিষয় তুলে ধরেন।

সমাবেশে ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, দ্রুত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে হবে। খসড়া ইপিএসএমপিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমদানি-নির্ভর ব্যয়বহুল এলএনজির আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই, এখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে।

 

তরুণরা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অব্যাহত নির্ভরতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

 

ইয়ুথ ফর এনডিসির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আমানউল্লাহ পরাগ বলেন, বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মূল্য আমরা আর দিতে পারি না। বিদ্যুৎ-জ্বালানির খরচ বহন করতে গিয়ে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে।

 

বক্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ ও মূল্য অস্থির হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারকে উচ্চমূল্যে এলএনজি, তেল ও কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে। এতে সরকারের ব্যয় বাড়ছে এবং অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জ্বালানির ঘাটতিতে রপ্তানিমুখী শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

 

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা সতর্ক করে বলেন, নতুন করে জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হলে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর। তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির কাছে আমাদের ভবিষ্যৎ বিক্রি করা যাবে না। সরকার শুধু ব্যবস্থা করে দেবে, বিদ্যুৎ আমরা নিজেরাই উৎপাদন করব।

 

তরুণরা অভিযোগ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাস্তবায়নে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। তারা স্মরণ করিয়ে দেন, সরকারি ভবনগুলোতে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্বঘোষিত লক্ষ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

 

তারা সৌর সরঞ্জামের ওপর উচ্চ কর, বিনিয়োগে জটিলতা ও নীতিগত অনিশ্চয়তাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন। এ কারণে সৌর সরঞ্জামের ওপর কর কমানো, দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) সম্প্রসারণের সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান তারা।

 

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক জলবায়ু অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আন্দোলনকারীরা বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমানো এখন আর বিকল্প কোনো বিষয় নয়। উন্নত দেশগুলোর প্রতি জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ এবং বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরে দ্রুত আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান তারা।

 

তরুণদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যানশিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। সরকার নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে, যা ইতিবাচক। তবে বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট কৌশল ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকতে হবে।

 

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালির বাস্তবতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন স্বাধীনতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা অনেক অব্যবহৃত জমি রয়েছে, যেগুলো সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

আয়োজকরা জানান, একই সময়ে দেশের ৫০টি জেলায়ও অনুরূপ জলবায়ু ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সেখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশ থেকে বাংলাদেশকে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

Posted ৭:২৮ পিএম | শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

www.pathokkantho.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Publisher
প্রধান উপদেষ্টা: শেখ শাহীন হোসেন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (NPS) মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ। উপদেষ্টা: এ্যাড: ড. ওহিদুল রহমান (আইনজীবী )। প্রকাশক ও সম্পাদক : আশিষ সাহা , মফস্বল সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম, সহকারী সম্পাদক: আলাউদ্দিন মন্ডল, নির্বাহী সম্পাদক: বিধান কুমার সরকার, বার্তা সম্পাদক: বাঁধন সরকার।
Office Address

কর্পোরেট অফিস ঠিকানা:৫৫/বি পুরানা পল্টন নোয়াখালী টাওয়ার লিফট ১৪ রুম নং সি/এ, ঢাকা ১০০০ ই-মেইল dailypathokkantho@gmail.com অফিস ফোন +8809638278137