| শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬ | প্রিন্ট


প্রকৃতি ছাড়া ভবিষ্যৎ নেই’—স্লোগানকে সামনে রেখে জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত পৃথিবীর দাবিতে রাজধানীতে জলবায়ু ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেছে শত শত তরুণ। মানিক মিয়া এভিনিউতে একশনএইড বাংলাদেশসহ দেশের ৩০টি যুব সংগঠন এবং ৮টি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম ইয়ুথ হাব আয়োজিত সমাবেশে অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে পদ্ধতিগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তারা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি একটি বিশালাকৃতির ‘দানব’ প্রদর্শন করেন। এটি পরিবেশের ওপর প্লাস্টিক ও জীবাশ্ম জ্বালানির ভয়াবহ প্রভাবকে ফুটিয়ে তোলে।
এ ছাড়া মাস্ক পরে জীবাশ্ম জ্বালানির স্বাস্থ্যঝুঁকিবিষয়ক একটি প্রতীকী প্রদর্শনী করেন আন্দোলনকারীরা।
এ সময় তরুণ জলবায়ুকর্মী নিপা সাহা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির নিঃসরণ আমাদের বাতাসকে বিষাক্ত করছে। বসবাসের অযোগ্য হওয়া থেকে দেশকে বাঁচাতে এখনই কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।
আরেক কর্মী ইমরান আহম্মেদ ইমন জলবায়ু সংকট নিরসনে নারীর নেতৃত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে নারীদের ওপর, তবু তাদের কণ্ঠই সবচেয়ে কম শোনা হয়। ন্যায়বিচারভিত্তিক জলবায়ু সমাধানে নারীর নেতৃত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করা এখন জরুরি। এই গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক সেই সমতার দাবিকে আরো জোরালো করে তুলছে।
আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে একশনএইড বাংলাদেশের ইয়ুথ, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট জাস্টিস টিমের লিড নাজমুল আহসান বলেন, জ্বালানি সুবিধা পাওয়া আমাদের মৌলিক মানবাধিকার।
পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো অপরিহার্য। আমরা তরুণদের সেই লড়াইকে সমর্থন করি যেখানে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করতে চায়।
সমাবেশ শেষে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে একটি র্যালি করে জলবায়ুকর্মীরা। ঢাকার পাশাপাশি দেশের আরো ২৭টি জেলায় হাজার হাজার তরুণ এই আন্দোলনে শামিল হন। চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ‘অ্যাক্টিভিস্টা’ নেটওয়ার্কের সদস্যরা জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে পদযাত্রা ও সমাবেশ করেন।
Posted ৭:২৫ পিএম | শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
www.pathokkantho.com | admin