বৃহস্পতিবার ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইন- আদালত
আইন- আদালত >>

মুক্তিযুদ্ধে ২০ বৈশাখে নিহতদের ‘শহীদ’ ঘোষণার দাবি

  |   সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ | প্রিন্ট

মুক্তিযুদ্ধে ২০ বৈশাখে নিহতদের ‘শহীদ’ ঘোষণার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌরসভা ও শহরতলীর হিন্দু অধ্যুষিত ১৮টি গ্রামে একাত্তরের ৪ মে ভয়ঙ্কর তাণ্ডব চালায়। দিনভর করে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও গণহারে ধর্ষণ। রাজাকার-আল-বদরদের সহায়তায় হানাদাররা হিন্দুসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রায় আড়াই শ নরনারীকে এদিন নির্মমভাবে হত্যা করে।

 

সোমবার (৪ মে) মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরগতিপ্রাপ্তদের (শহীদ) স্মরণ করেছে বাজিতপুরবাসী।

 

বসন্তপুর হরিসভায় বিপুল সমাগমে গীতা পাঠ, কীর্তন, প্রার্থনা, স্মরণসভা, মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ ও মহাভোজ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের এমপি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল সোমবার সকালে হরিসভায় গড়া স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ ছাড়াও শহীদদের পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও হরিসভার পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

অধ্যাপক ইন্দ্রজিত দাসের সভাপতিত্বে প্রথিতযশা সাংবাদিক মনোজ রায়ের পরিচালনায় স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহের উল্লাহ, মো. মাসুক মিয়া, বাজিতপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আবুল ফজল হোসেন প্রমুখ।

 

স্মরণসভায় বক্তারা একাত্তরের ৪ মে নিহত সবাইকে শহীদের মর্যাদা দিয়ে তাঁদের পরিবারকে ‘শহীদ পরিবার’ ঘোষণার দাবি তোলেন।

শহীদ পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধাদের সূত্রে জানা যায়, একাত্তরের ৪ মে ছিল বঙ্গাব্দ ২০ বৈশাখ। ওই দিন খুব সকালে ট্রাকে চেপে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত জনপদ বাজিতপুরে হানা দেয়। পরে পৌর শহরের বসন্তপুর, আলিয়াবাদ, নিতারকান্দি, চন্দ্রগ্রাম, বসাকপাড়া, পৈলনপুর, শহরতলীর নোয়াগাঁও, আছানপুর, শিয়ালদীরপাড়, শোভারামপুরসহ প্রায় ১৮টি গ্রামে স্থানীয় রাজাকার-আলবদরদের সহায়তায় তারা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

 

 

ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা জানান, হানাদার বাহিনী এদিন হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে নির্বিচারে লুণ্ঠন, নারী ধর্ষণ ও অত্যাচার করে। পরে তরুণী-যুবতীসহ কয়েক শ মানুষকে ধরে ট্রাকে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে। আজ পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে অনেকেরই সন্ধান মেলেনি। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত।

ওইদিন দীঘিরপাড় নোয়াগাঁওয়ের একই পরিবারের ছেলেবুড়ো মিলিয়ে সাতজন ঘোড়াউত্রা নদী পাড়ি দিয়ে পালানোর নির্বিচার গুলিবর্ষণ করে সেনারা।

 

এ দলে থাকা সুনীল দাস জানান, সৈন্যদের ছোড়া গুলিতে খেয়া নৌকার ওপরই তাঁর বাবা ও ভাইসহ পরিবারের সাতজন সদস্য মারা যান। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বসন্তপুরের স্বরবিন্দু দাস জানান, শহরে পাকিস্তানি আর্মি নামার খবরে তিনিসহ শত শত হিন্দু নরনারী শহর ছেড়ে গ্রামের দিকে ছোটেন। দূরে থেকেই গাছপালার ওপর দিয়ে আগুন দেখতে পান।

একাত্তরে নারকীয় তাণ্ডবের ঘটনাবহুল এ দিনটি বাজিতপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এতদিন পালন করা হয়নি। অবশ্য ২০১৬ সালে বীরগতিপাপ্তদের (শহীদ) স্মরণে বাজিতপুর হরিসভা চত্বরে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপিত হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায় প্রতিবছর ২০ বৈশাখে হরিসভায় বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে।

Posted ৮:১২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

www.pathokkantho.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

Publisher
প্রধান উপদেষ্টা: শেখ শাহীন হোসেন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি (NPS) মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ। উপদেষ্টা: এ্যাড: ড. ওহিদুল রহমান (আইনজীবী )। প্রকাশক ও সম্পাদক : আশিষ সাহা , মফস্বল সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম, সহকারী সম্পাদক: আলাউদ্দিন মন্ডল, নির্বাহী সম্পাদক: বিধান কুমার সরকার, বার্তা সম্পাদক: বাঁধন সরকার।
Office Address

কর্পোরেট অফিস ঠিকানা:৫৫/বি পুরানা পল্টন নোয়াখালী টাওয়ার লিফট ১৪ রুম নং সি/এ, ঢাকা ১০০০ ই-মেইল dailypathokkantho@gmail.com অফিস ফোন +8809638278137