| মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ | প্রিন্ট


ত্যাগ, নির্যাতন ও আপসহীন রাজনীতির প্রতীক জাহাঙ্গীর সাউথ
হাসান হাওলাদার | বিশেষ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সাহস, ত্যাগ ও আপসহীন অবস্থানের এক পরিচিত নাম জাহাঙ্গীর সাউথ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে তিনি বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্যাতন, হামলা-মামলা ও গুমের শিকার হয়েও রাজপথ ছাড়েননি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত একজন নির্ভীক ও ত্যাগী রাজনৈতিক সৈনিক হিসেবে।
বর্তমানে তিনি তারাবো পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও তিনি দলীয় আদর্শ থেকে কখনো সরে দাঁড়াননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক স্বৈরাচার সরকারের আমলে বিএনপির রাজনীতি করার কারণে একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হন জাহাঙ্গীর সাউথ। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রভাবশালী মহল ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের রোষানলে পড়ে তিনি নিজের বসতভিটাও হারান। তারাবো এলাকার প্রায় ২০ কাঠা জমি রাতের আঁধারে বালু ভরাট করে দখল করে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তার স্বজনরা। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।
জানা যায়, ওই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৫ সালের এক জুমার দিনে খাদুন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ এলাকায় তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
শুধু সম্পত্তি হারানোই নয়, রাজনৈতিক জীবনে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে জাহাঙ্গীর সাউথকে। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই তাকে এক সপ্তাহের জন্য গুম করে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তার পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা। সে সময় পরিবার-পরিজন ও এলাকাবাসী আশঙ্কা করেছিলেন তিনি হয়তো আর জীবিত ফিরবেন না। দীর্ঘ কয়েকদিন তার কোনো সন্ধান না পেয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটান স্বজনরা।
পরিবারের অভিযোগ, অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে নদীর পাড়ের নির্জন স্থানে নিয়ে রাতভর টর্চার চালানো হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। রাজনৈতিক সহকর্মীরা জানান, সে সময় তিনি রূপগঞ্জের বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং বিএনপির কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, এমন একটি সময় ছিল যখন অনেকেই রাজনৈতিক চাপ ও সুবিধার আশায় দল পরিবর্তন করে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু নানা প্রলোভন, ভয়ভীতি ও চাপ সত্ত্বেও জাহাঙ্গীর সাউথ কখনো দল পরিবর্তন করেননি। তাকে বিভিন্ন লোভনীয় প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির রাজনীতিতেই অবিচল ছিলেন।
রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের ভাষ্য, “জাহাঙ্গীর সাউথ ছিলেন রাজপথের একজন সাহসী কর্মী। মামলা, হামলা, নির্যাতন কিংবা গুম—কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। তিনি সবসময় দলের জন্য নিবেদিত ছিলেন।”
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও নির্যাতনের পর অবশেষে তার জমির একটি অংশের মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহল। যদিও পুরো সম্পত্তি তিনি এখনো ফেরত পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে জাহাঙ্গীর সাউথের মতো নেতাদের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ক্ষমতার পালাবদলের বিভিন্ন সময়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরা যেভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তার একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে অনেকেই জাহাঙ্গীর সাউথের ঘটনাকে দেখছেন।
তারাবো পৌরসভায় এখনও সাধারণ মানুষের মাঝে একজন সাহসী, আপসহীন ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর সাউথ। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, নির্যাতন ও ব্যক্তিগত ক্ষতির পরও তিনি দলীয় আদর্শ ও কর্মীদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
Posted ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
www.pathokkantho.com | admin
(67 বার পঠিত)
(59 বার পঠিত)
(57 বার পঠিত)
(56 বার পঠিত)
(54 বার পঠিত)
(53 বার পঠিত)