| রবিবার, ০৩ মে ২০২৬ | প্রিন্ট


২২ বছর আগে ঢাকার শ্যামপুর এলাকায় নাঈম শিকদার বিন্দু নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা মামলায় ৬ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৩ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক জাকারিয়া হোসেন এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন শামীম হোসেন শিকদার, শহিদুল ইসলাম ওরফে ঠোঁটকাটা রিপন, শহীদ ওরফে ড্রাইভার শহীদ (মৃত), শহিদ হোসেন ওরফে সেঞ্চু, দুলাল ওরফে কালা দুলাল ওরফে জাকির হোসেন এবং আমিনুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী ফকির জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।’
মৃত ব্যক্তি শহীদের সাজার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের স্যার বিচার চলাকালে কোনো আসামি মারা গেলেও দণ্ডিত হলে তাকে সাজা দেন।’
আসামিদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর তথ্য জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পলাতক অপর আসামিদের সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
’
কমিশনার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নাঈমের সঙ্গে আসামিদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।
২০০৪ সালের ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে শ্যামপুরের ২১৩ নং কলিমুল্লাহ বাগ বটতলার গোল্ডেন হেয়ার ড্রেসারের সামনে আসামিরা কয়েক রাউন্ড গুলি করে নাঈমকে হত্যা করে। এ ঘটনায় পরদিন নাঈমের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন কদমতলী থানায় ১১ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশ।
তবে তদন্তের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এবং ঘাতকদের শনাক্ত করতে না পারায় মামলার তদন্তভার পায় ডিবি পুলিশ। ডিবি পুলিশের তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলেও এজাহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পায়নি। পরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ডিবি পুলিশ। সাবিনা ইয়াসমিন চূড়ান্ত প্রতিবেদনের নারাজি দাখিল করলে তদন্তভার পায় সিআইডি।
মামলাটি তদন্ত করে ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র জমা দেন সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর মঞ্জুরুল রহমান ভূঁইয়া। ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে।
মামলার একমাত্র আসামি আমিনুল আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চায়। অপর আসামিরা পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেনি। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত থেকে আজ সাজার রায় এলো।
Posted ৭:২৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
www.pathokkantho.com | admin