
জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে ইমাম পরিবারের বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ
ব্যুরো চিফ ফরিদপুর:
ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর ৬নং ওয়ার্ডে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মোঃ কামাল হোসাইনের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোঃ কামাল হোসাইনের সঙ্গে একই এলাকার প্রতিবেশী আব্দুর ওহাব মন্ডলের দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে বিষয়টি বর্তমানে ফরিদপুর জেলা আদালতে দেওয়ানি মামলা হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময় তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। পূর্বেও একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো ন্যায়বিচার বা কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ জুন শুক্রবার সকালে আব্দুর ওহাব মন্ডলের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি অতর্কিতভাবে কামাল হোসাইনের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে মোসাঃ সাবিনা ইয়াসমিন, ওবায়দুল মন্ডল, ওহাব শেখ, তোফাজ্জেল হোসেন, মোরাদ মন্ডল, সুজন মন্ডল, উর্মি আক্তার ও কাদের মন্ডলসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ সময় হামলাকারীরা বাড়ির বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় এবং নির্মাণাধীন একটি সেপটিক (সেফটি) ট্যাংক ভেঙে ফেলে। এতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার সময় তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। সেপটিক ট্যাংক ভাঙচুরে বাধা দিতে গেলে ইমাম কামাল হোসাইনের স্ত্রী ও ছেলেকে মারধর করা হয়, ফলে তারা আহত হন।
উল্লেখ্য, মোঃ কামাল হোসাইন দীর্ঘদিন যাবৎ হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি জানান, মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ৬৫ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে। হামলাকারীদের ভাঙচুরে নির্মাণাধীন সেপটিক ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মাদ্রাসার ছাত্রীদের পানি পান ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে পানি ব্যবহারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “সেপটিক ট্যাংকটি ভেঙে দেওয়ায় মাদ্রাসার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে কোমলমতি ছাত্রীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
ভুক্তভোগী মোঃ কামাল হোসাইন বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তারপরও প্রতিপক্ষ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আমার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমার স্ত্রী ও সন্তানকে মারধর করা হয়েছে এবং নির্মাণাধীন স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার কারণে শুধু তার পরিবারেরই ক্ষতি হয়নি, এর প্রভাব পড়েছে তার পরিচালিত হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপরও। তিনি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি পূরণ এবং মাদ্রাসার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই হাসান শিকদার জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দায়ের করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল আদালতে বিচারাধীন জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ ধরনের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।