
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অবকাঠামো ও নথিপত্র স্থানান্তরের পদক্ষেপ না নিতে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে আদালত অবমাননার নেটিশ পাঠানো হয়েছে। অনুরোধ না মানলে দুই সচিবের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে নোটিশে।
আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবীর পক্ষে ই-মেইল ও রেজিস্ট্রি ডাকে নোটিশটি পাঠান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লাকে নোটিশটি পাঠানো হয়।
পরে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই সচিব নোটিশের কী জবাব দেন, এর ওপর ভিত্তি করে অথবা জবাব না দিলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা আদালত অবমাননার আবেদন করব।’
জানা যায়, এক রিট মামলায় চূড়ান্ত শুনানির পর গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রায় দেন উচ্চ আদালত। রায়ে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ‘স্বতন্ত্র সচিবালয়’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের মধ্যে গত বছর ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।
অধ্যাদেশ জারির পরদিন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে সচিবালয়ের সচিবের দায়িত্ব দেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ওই দিনই সচিবালয়ের জন্য পদ সৃষ্টি, বিলোপ বা বিন্যাসে সংক্রান্ত ‘পদ সৃজন’কমিটি গঠন করা হয়। পরে ১০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদ সংলগ্ন ৪ নম্বর প্রশাসনিক ভবনে সচিবালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ওই ভবনেই চলে আসছিল সচিবালয়ের কাজ।
এর মধ্যে গত ১০ এপ্রিল বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস হয় সংসদে।
আদালত অবমাননার নোটিশে বলা হয়েছে, ‘আজ পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার কোনো আপিল দায়ের করেনি। সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রায়ের নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলক।’
নোটিশে আরো বলা হয়েছে, ‘গত ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন পাস হওয়ার পর আপনারা (দুই সচিবকে) সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অবকাঠামো ও কারর্যধারা সম্পর্কিত নথিপত্র স্থানান্তরের পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আপনারা আদালতের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অবকাঠামো ও কারর্যধারা সম্পর্কিত নথিপত্র স্থানান্তরের যেকোনো ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় আপনাদের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননার আবেদন করা হবে।’ এর আগে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের ৭ আইনজীবী।
রিটকারীদের আইনজীবী ছিলেন মোহাম্মদ শিশির মনির। রিটে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের চলমান কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি রহিত করা আইনটি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল চাওয়া হয়। গত ২০ এপ্রিল রিটটি
শুনানিতে উঠলে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতকে জানান, সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। এ তথ্য জানানোর পর শুনানি মুলতবি করেন বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ।